মালদা জেলা | নিজস্ব প্রতিনিধি
মালদা জেলার এক গ্রামে রবিবার রাতের নৃশংস খুনের ঘটনা এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। পুলিশ জানিয়েছে, মৃত যুবকের নাম রাহুল সরকার, বয়স আনুমানিক ২৭ বছর। অভিযোগ, রাতে গ্রামে সংঘর্ষের সময় কয়েকজন দুষ্কৃতী রাহুলকে মারধরের পরে হত্যা করেছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাত ১০টা ৩০ মিনিটের দিকে গ্রামপাড়া এলাকায় রাহুলের সঙ্গে কয়েকজনের মধ্যে বচসা হয়। মুহূর্তের মধ্যে তা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় এবং হামলাকারীরা ধারালো অস্ত্র ব্যবহার করে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, পূর্বপরিচিতদের সঙ্গে বিরোধের জেরেই এই হত্যার ঘটনা ঘটেছে।
স্থানীয়রা আহত অবস্থায় রাহুলকে দ্রুত নিকটবর্তী সরকারি হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য জেলা হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ময়নাতদন্তের পর নিশ্চিত করা হবে।
পুলিশ রাতেই ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। গ্রামজুড়ে তল্লাশি চালানো হয়েছে এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলে প্রাথমিক তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। পুলিশ জানিয়েছে, সন্দেহভাজনদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।
এক পুলিশ আধিকারিক বলেন,
“ঘটনাটি অত্যন্ত নৃশংস। প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলা হচ্ছে। আমরা দ্রুত অভিযুক্তদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করতে চেষ্টা করছি।”
প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, হত্যার পেছনে ব্যক্তিগত বিরোধ থাকতে পারে। এলাকাবাসীর তথ্য অনুযায়ী, রাহুলের সঙ্গে একই গ্রামের একাধিক পরিবারের মধ্যে পূর্ববিরোধ চলছিল।
এই ঘটনায় গ্রামবাসীর মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। রাতের বেলা কেউ বাড়ির বাইরে বের হতে ভয় পাচ্ছে। পুলিশ এলাকাজুড়ে টহল বাড়িয়েছে।
গ্রামের এক প্রবীণ ব্যক্তি বলেন,
“রবিবার রাতের নৃশংস খুন পুরো এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। হামলাকারীদের দ্রুত শনাক্ত ও দণ্ডিত করা উচিত।”
এক তরুণ বাসিন্দা মন্তব্য করেছেন,
“রাহুল শান্তিপ্রিয় মানুষ ছিলেন। তার সঙ্গে বিরোধ থাকলেও এমন নৃশংস হত্যাকাণ্ড ন্যায়ের বাইরে।”
পুলিশ তদন্তের পরবর্তী ধাপে রয়েছে সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা, মোবাইল কল ডিটেইল বিশ্লেষণ, এবং প্রত্যক্ষদর্শীর বিবৃতি সংগ্রহ। ময়নাতদন্ত রিপোর্ট পাওয়ার পর মামলার পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণ করা হবে।