বীরভূম জেলার দুবরাজপুর ব্লকের একটি গ্রামে রাজনৈতিক আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে রণক্ষেত্রের চেহারা নিল এলাকা। রবিবার গভীর রাতে দুই শিবিরের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ এবং ব্যাপক বোমাবাজির ঘটনা ঘটেছে। অভিযোগ, রাতের অন্ধকারে এক পক্ষ অন্য পক্ষের কর্মীদের লক্ষ্য করে একের পর এক বোমা ছোড়ে। এই ঘটনায় গ্রামজুড়ে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বীরভূম জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে বিশাল পুলিশ বাহিনী ও র্যাফ (RAF) নামানো হয়েছে।
ঘটনার প্রেক্ষাপট
স্থানীয় সূত্রের খবর, গত কয়েকদিন ধরেই দুবরাজপুর সংলগ্ন ওই এলাকায় দুই রাজনৈতিক দলের স্থানীয় নেতৃত্বের মধ্যে ঠান্ডা লড়াই চলছিল। রবিবার সন্ধ্যায় একটি ছোট বিষয় নিয়ে বচসা শুরু হয়, যা রাত বাড়তে বাড়তে সশস্ত্র সংঘর্ষের রূপ নেয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, অন্তত ২০-২৫টি বোমা ছোড়া হয়েছে। বোমার আঘাতে বেশ কয়েকটি বাড়ির জানলার কাঁচ ভেঙে গেছে এবং একটি গবাদি পশুর খামার আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
পুলিশের অভিযান ও ধরপাকড়
ঘটনার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই বীরভূমের পুলিশ সুপারের নির্দেশে দুবরাজপুর ও সংলগ্ন থানার আইসিরা বিশাল ফোর্স নিয়ে এলাকায় পৌঁছান। পুলিশকে দেখে দুষ্কৃতীরা পালিয়ে গেলেও রাতভর তল্লাশি চালিয়ে ৫ জনকে আটক করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাস্থল থেকে কয়েকটি অবিস্ফোরিত বোমা উদ্ধার করা হয়েছে, যা আজ সকালে বম্ব ডিসপোজাল স্কোয়াড নিষ্ক্রিয় করবে।
জেলা পুলিশের এক পদস্থ আধিকারিক জানান, “রাজনৈতিক ঝামেলার আড়ালে কিছু সমাজবিরোধী এই অশান্তি পাকানোর চেষ্টা করছে। এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ ও ড্রোনের মাধ্যমে নজরদারি চালানো হচ্ছে। অপরাধীদের কোনোভাবেই রেয়াত করা হবে না।”
রাজনৈতিক চাপানউতোর
ঘটনাটি নিয়ে বীরভূমের রাজনৈতিক মহলে তীব্র উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। স্থানীয় শাসক শিবিরের দাবি, “শান্তিপূর্ণ এলাকায় ভয়ের পরিবেশ তৈরি করে বিরোধী পক্ষ ঘরছাড়ানোর চেষ্টা করছে।” পাল্টা বিরোধীদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, “শাসকদলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের জেরেই এই বোমাবাজি। দোষ ঢাকতে পুলিশকে ব্যবহার করে সাধারণ কর্মীদের হয়রান করা হচ্ছে।”
এলাকার বর্তমান পরিস্থিতি
সোমবার সকাল থেকেই গ্রাম থমথমে। অধিকাংশ দোকানপাট বন্ধ রাখা হয়েছে। আতঙ্কিত গ্রামবাসীদের একাংশ ঘর থেকে বেরোতেও ভয় পাচ্ছেন। এলাকায় শান্তি ফেরাতে পুলিশের পক্ষ থেকে রুট মার্চ করা হচ্ছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে না আসা পর্যন্ত গ্রামে অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প মোতায়েন থাকবে।
বীরভূমের এই ঘটনা আবারও জেলার রাজনৈতিক হিংসার চিত্রটি সামনে নিয়ে এল। এই বিষয়ে রাজ্য নির্বাচন কমিশনের কাছেও বিস্তারিত রিপোর্ট পাঠানো হতে পারে বলে নবান্ন সূত্রে জানা গিয়েছে।