হাওড়া জেলা | নিজস্ব প্রতিনিধি
হাওড়া জেলার এক গ্রামে রবিবার রাতে কিশোরী ধর্ষণ ও নিগ্রহের ঘটনা এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার শিকার কিশোরী বয়স আনুমানিক ১৮–১৯ বছর। তার পরিবার অভিযোগ করেছে, স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি কিশোরীকে জোরপূর্বক বাড়ি থেকে বের করে নিয়ে যাওয়ার পর শারীরিক ও মানসিকভাবে নিগ্রহ করেছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রবিবার রাত ১১টার দিকে গ্রামপাড়া এলাকায় ওই কিশোরীর সঙ্গে কয়েকজনের মধ্যে ঝগড়া হয়। মুহূর্তের মধ্যে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় এবং কিশোরীকে শারীরিকভাবে আঘাত করা হয়। স্থানীয়রা দ্রুত পুলিশকে খবর দেয় এবং আহত কিশোরীকে নিকটবর্তী সরকারি হাসপাতালে নিয়ে যায়। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, কিশোরী শারীরিকভাবে স্থিতিশীল, তবে মানসিকভাবে চাপের মধ্যে রয়েছে।
পুলিশ রাতেই ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করে। তারা প্রত্যক্ষদর্শীর সাক্ষ্য সংগ্রহ করছেন এবং আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করছেন। থানার এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন,
“ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুতর। আমরা দ্রুত অভিযুক্তদের শনাক্ত ও আইনের আওতায় আনার চেষ্টা করছি।”
প্রাথমিক অনুমান অনুযায়ী, ধর্ষণ ও নিগ্রহের পেছনে ব্যক্তিগত বিরোধ থাকতে পারে। তবে চূড়ান্ত তদন্তের পর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হবে। পুলিশ অভিযুক্তদের শনাক্ত করতে দিন-রাত কাজ করছে এবং ডিজিটাল প্রমাণসহ প্রত্যক্ষদর্শীর বিবৃতি খতিয়ে দেখছে।
ঘটনার পর গ্রামবাসীদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। রাতের বেলা কেউ বাড়ির বাইরে বের হতে ভয় পাচ্ছে। একাধিক পরিবার বাড়ির নিরাপত্তা বাড়িয়েছে এবং পুলিশের তৎপরতা কামনা করছে।
গ্রামের এক প্রবীণ জানান,
“এমন নৃশংস ঘটনা আমাদের এলাকায় আগে কখনও ঘটেনি। অপরাধীদের দ্রুত শনাক্ত ও শাস্তি দেওয়া উচিত।”
এক তরুণ বাসিন্দা বলেন,
“কিশোরী নিরীহ। তার সঙ্গে কোনো ব্যক্তিগত বিরোধ থাকলেও এই ধরনের ঘটনা ন্যায়ের বাইরে।”
পুলিশ তদন্তের পরবর্তী ধাপে রয়েছে সিসিটিভি ফুটেজ, মোবাইল কল ডিটেইল এবং প্রত্যক্ষদর্শীর বিবৃতি সংগ্রহ। ময়নাতদন্ত ও ফরেনসিক রিপোর্টের পর মামলা আরও দৃঢ় করা হবে।
জেলা প্রশাসন ও নারী ও শিশু কল্যাণ দপ্তরও তদন্তের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। প্রশাসনের নির্দেশে গ্রামে নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে।
এই ধর্ষণ ও নিগ্রহের ঘটনা শুধু একটি অপরাধ নয়, এটি গ্রামীণ জনজীবন ও নিরাপত্তার ক্ষেত্রে গভীর প্রভাব ফেলছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, দ্রুত ও স্বচ্ছ তদন্ত এবং অভিযুক্তদের শাস্তি সমাজে নিরাপত্তার বোধ গড়ে তুলবে।