নদিয়া | নিজস্ব সংবাদদাতা
নদিয়া জেলার একাধিক এলাকায় সম্প্রতি চুরি ও ডাকাতির ঘটনা বৃদ্ধি পাওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েক সপ্তাহে জেলার গ্রামীণ ও শহরতলি এলাকায় একাধিক বাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে চুরির পাশাপাশি রাতের অন্ধকারে ডাকাতির অভিযোগ সামনে এসেছে। এই পরিস্থিতিতে জেলার আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি তদন্ত জোরদার করেছে।
পুলিশ জানায়, কৃষ্ণনগর, রানাঘাট ও চাকদহ সংলগ্ন এলাকায় গত কয়েকদিনে একাধিক বাড়িতে দুষ্কৃতীরা হানা দিয়েছে। কোথাও রাতের বেলা তালা ভেঙে ঘরে ঢুকে নগদ টাকা ও সোনার গয়না লুট করা হয়েছে, আবার কোথাও অস্ত্র দেখিয়ে পরিবারের সদস্যদের ভয় দেখিয়ে মূল্যবান সামগ্রী নিয়ে পালিয়েছে ডাকাতরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বেশিরভাগ ঘটনাই ঘটেছে গভীর রাতে, যখন পরিবারের সদস্যরা ঘুমিয়ে ছিলেন। কিছু ক্ষেত্রে বাড়ির বাইরে রাখা মোটরবাইক ও সাইকেল চুরি হওয়ার অভিযোগও উঠেছে। একাধিক পরিবার থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে।
এক গৃহস্থ জানান, “রাতে হঠাৎ শব্দ পেয়ে ঘুম ভেঙে যায়। কিছু বোঝার আগেই কয়েকজন মুখ ঢাকা ব্যক্তি ঘরে ঢুকে পড়ে। তারা আলমারি খুলে গয়না ও নগদ টাকা নিয়ে যায়। বাধা দিলে হুমকি দেয়।”
আরেক বাসিন্দার অভিযোগ, এলাকায় নিয়মিত টহল না থাকায় দুষ্কৃতীরা সুযোগ নিচ্ছে। স্থানীয়দের দাবি, পুলিশের টহল বাড়ানো না হলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে।
পুলিশের এক আধিকারিক বলেন,
“চুরি ও ডাকাতির প্রতিটি অভিযোগ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। একাধিক ঘটনার মধ্যে যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সন্দেহভাজনদের তালিকা তৈরি করা হয়েছে।”
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, তদন্তের অংশ হিসেবে বিভিন্ন এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হচ্ছে। পাশাপাশি মোবাইল টাওয়ার ডেটা বিশ্লেষণ করে দুষ্কৃতীদের গতিবিধি চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে। জেলার সীমান্তবর্তী এলাকার দিকেও নজর দেওয়া হয়েছে, যাতে অভিযুক্তরা এলাকা ছাড়তে না পারে।
এদিকে চুরি ও ডাকাতির ঘটনায় ব্যবসায়ীরাও উদ্বিগ্ন। কয়েকটি ছোট দোকান ও গুদামে রাতের বেলা চুরির অভিযোগ উঠেছে। এক ব্যবসায়ী বলেন, “রাতে দোকান বন্ধ করে বাড়ি ফিরলেও চিন্তায় থাকতে হয়। নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার না হলে ব্যবসা চালানো কঠিন হয়ে যাবে।”
জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। রাতের বেলা বাড়ির দরজা ও জানালা ভালোভাবে বন্ধ রাখা, অচেনা কাউকে সন্দেহজনকভাবে দেখলে থানায় খবর দেওয়ার অনুরোধ করা হয়েছে। পাশাপাশি পাড়া বা গ্রামে রাত্রীকালীন নজরদারি বাড়ানোর কথাও বলা হয়েছে।
প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে, জেলার বিভিন্ন থানায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। রাতের টহল বাড়ানোর পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও মোড়ে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। পুলিশের দাবি, খুব শীঘ্রই এই চুরি ও ডাকাতি চক্রের সঙ্গে যুক্তদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অর্থনৈতিক চাপ ও সংগঠিত অপরাধ চক্রের সক্রিয়তা চুরি ও ডাকাতির ঘটনার অন্যতম কারণ হতে পারে। তবে দ্রুত তদন্ত ও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া গেলে অপরাধ দমন সম্ভব।
জেলা পুলিশের এক কর্তা জানান, “আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি। সাধারণ মানুষের সহযোগিতা পেলে অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা যাবে।”
এই মুহূর্তে নদিয়া জুড়ে আতঙ্কের পরিবেশ থাকলেও পুলিশ প্রশাসনের আশ্বাস, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সবরকম ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।